আশিকুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি | ১০ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে গাজীপুরে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী। দলীয় তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি বড় অংশ যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দখলে। ফলে দলটির ভেতরে যোগ্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে চলছে নানা তৎপরতা। এ প্রেক্ষাপটে গাজীপুর মহানগরের রাজনীতিতে বীনা চৌধুরীর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
টঙ্গী সরকারি কলেজে ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বীনা চৌধুরী। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুব মহিলা দল হয়ে বর্তমানে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক—তার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ ও ধারাবাহিক।
দলীয় সূত্র জানায়, তিনি শুধু পদধারী নেতা নন; আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এক কর্মী হিসেবেও পরিচিত। রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশি হয়রানি ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির মাঠে অবিচল রয়েছেন।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মহানগরের বিভিন্ন থানায় নারী নেত্রীদের সমন্বয়, গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নারী নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
গাজীপুর মহানগরের শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তার সক্রিয়তা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তার নিয়মিত সম্পৃক্ততা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, “ত্যাগ, সংগ্রাম ও সংগঠনের প্রতি নিবেদন”—এই মানদণ্ডে বীনা চৌধুরী একজন যোগ্য প্রার্থী।
নিজের রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে বীনা চৌধুরী বলেন,
“ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দলের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি। হামলা, মামলা, নির্যাতন—সবকিছু উপেক্ষা করেও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাইনি। দল যদি আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়, তবে জাতীয় সংসদে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে এখনো উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটি বিষয় স্পষ্ট—খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।