নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
শেরপুরে তান্ত্রিক বা কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এক স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই জামালপুর। অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সরকারি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার বিষয়ে কিছুটা হীনম্মন্যতায় ভুগছিল। এই মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (টিকটক) জনৈক ‘খুরশেদ কবিরাজ’-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রতারক চক্রটি ওই কিশোরীকে আশ্বস্ত করে যে, তান্ত্রিক উপচারের মাধ্যমে সে তার বাবা-মায়ের সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠবে।
গত ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে তান্ত্রিক ফি, খাসি কোরবানি, জায়নামাজ, চন্দন কাঠ ও এমনকি ‘শুকর জবাই’ করার নামে কিশোরীর কাছ থেকে কয়েক দফায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে গত ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে তার কাছ থেকে আরও ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কিশোরীর বাবা, কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে।
জামালপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম) জানান, এই চক্রটি ইমো ও টিকটক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আবেগ ও সরলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সতর্কবার্তা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অলৌকিক সমাধান বা তান্ত্রিক চিকিৎসার নামে কোনো লেনদেন না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।