মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার
চাটখিল (নোয়াখালী): নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ১নং সাহাপুর ইউনিয়নে একটি শতবর্ষী সেতু এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ছমি পাটোয়ারী বাড়ির সামনে ‘কচুয়া–চৌমুহনী’ খালের ওপর নির্মিত এই জরাজীর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন চিত্র: সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটির পাটাতন ও পিলারে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। অত্যন্ত উঁচু ও সরু এই সেতুর দুই পাশে কোনো রেলিং নেই। ফলে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলোকে পার হতে হচ্ছে চরম আতঙ্কে। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা: স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহাপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর ও শিবরামপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। বিশেষ করে শিবরামপুর (বাংলাবাজার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সোমপাড়া গার্লস স্কুল, সোমপাড়া কলেজ এবং খোয়াজের ভিটি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো পার হচ্ছে।
বিপজ্জনক ইতিহাস: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০০ বছর আগে তৎকালীন নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুটি অনেক উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর উচ্চতা ও জরাজীর্ণ অবস্থা যাতায়াতের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। কয়েক বছর আগে এই সেতু থেকে পড়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। তাদের মতে, সেতুটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে ১নং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্যাহ খোকন বলেন, "সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব বাজেট না থাকায় আমরা বিষয়টি উপজেলা পিআইও অফিসকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।"
চাটখিল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহিনুর আলম জানান, "সেতুটির সংযোগ সড়ক এলজিইডির আওতাভুক্ত হলে আমরা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠাতে পারবো। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, জনস্বার্থে নোয়াখালী–১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন এখানে একটি আধুনিক ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হয়।