
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী: ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’—এই প্রত্যয়ে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা ও ক্লান্তি বিদায় জানিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহীতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে নতুন বছরকে। এরই অংশ হিসেবে মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা অক্ট্রয় মোড়ে ‘রুপা সিক্সটিন’ (Rupa-16) পরিবারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণিল মিলনমেলা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে নতুন বছরকে স্বাগত জানান রুপা সিক্সটিনের বাসিন্দারা। ভবনটির অধিকাংশ ফ্ল্যাট মালিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়াও এখানে বসবাস করেন পদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকবৃন্দ। মূলত পেশাজীবীদের এই আবাসন প্রাঙ্গণটি এদিন রূপ নেয় একখণ্ড বাঙালিয়ানায়।
নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীবাসী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভবনের বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. ফারজানা পারভীন, রুমানা জান্নাত, শাকিলা হোসেন, নাজনিন সুমনা, প্রফেসর ড. মর্জিনা খাতুন, শাকিলা ইসলাম, প্রফেসর ড. শাহনাজ বেগম, প্রফেসর ড. সোনিয়া শারমিন খান, শারমিন হুদা নূপুর, প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মতিয়ার রহমান, প্রফেসর ড. তোফাজ্জল হোসেন, প্রফেসর ড. আমীরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. আসাদুল হক, প্রফেসর ড. নূরুল মোমেন এবং অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটি (বিপিএস)-এর নির্বাচিত সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, "মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে প্রবর্তিত ফসলি সন থেকেই বাংলা সনের সূচনা। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতা ও চৈত্রসংক্রান্তির গণ্ডি পেরিয়ে নববর্ষ এখন শহর-গ্রামের সবার প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলা নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়কে ধারণ করে সকল সংকীর্ণতা পরিহার করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।"
আয়োজনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা জানান, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এমন সম্মিলিত উদযাপন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। নতুন বছরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন তারা।