
শাহিন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধি | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
বরিশাল: নামেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্তু বাস্তবে সেখানে শিক্ষার্থীর দেখা মেলাই ভার। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৭১ নং দক্ষিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। ৫ জন শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও পুরো বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ জনে!
বিদ্যালয়টির বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এক অদ্ভুত সমীকরণ। ৫ জন শিক্ষিকার বিপরীতে বর্তমানে পাঠদান করার মতো শিক্ষার্থী আছে মাত্র ৪ জন। শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নরূপ:
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির কোনো যথাযথ ভবন নেই। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষিকারা স্কুলে এলেও উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি স্কুল হওয়া সত্ত্বেও ন্যূনতম শিক্ষার পরিবেশ ও ভবন না থাকায় তারা সন্তানদের এখানে পাঠাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
কাগজে-কলমে ৫ জন শিক্ষিকা নিযুক্ত থাকলেও সরেজমিনে মাত্র ২ জন শিক্ষিকার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী না থাকায় উপস্থিত শিক্ষিকাদের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদী হতাশা দেখা গেছে। পাঠদানের চাপ না থাকায় তারা এক প্রকার অলস সময় পার করছেন।
একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—
১. কেন বছরের পর বছর একটি সরকারি স্কুলে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না?
২. সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিলেও শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনতে কেন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না?
"উপযুক্ত ভবন ও পরিবেশ না থাকায় আমরা বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় পাই। স্কুলটি এখন নামেই টিকে আছে।"
— স্থানীয় এক অভিভাবক
সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।