
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সরকারি গভীর নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অফিস সহকারী মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পারুল বেগম উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে হারুনুর রশিদ সরকারি বরাদ্দ থেকে গভীর নলকূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
পারুল বেগম প্রথমে নগদে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে হারুনের চাপে ধারদেনা করে আরও ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
টাকা নেওয়ার পর দেড় বছর অতিবাহিত হলেও নলকূপ স্থাপন না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন হারুন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হারুনকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সোমবার সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করতে গেলে পারুল বেগম জানতে পারেন, হারুন কমলনগর থেকে বদলি হয়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় চলে গেছেন। এরপরই কোনো উপায় না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযুক্ত হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় চাকরির সুবাদে আধিপত্য বিস্তার ও অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি:
গভীর নলকূপ, পুল-কালভার্ট ও পুকুরের ঘাটলা নির্মাণের কথা বলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এলজিইডি অফিসের এক কর্মী জানান, হারুনের ভয়ে ঠিকাদারসহ সাধারণ মানুষ কথা বলার সাহস পেত না।
সম্প্রতি অফিসের তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত মো. হারুনুর রশিদ বলেন, "টাকাগুলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত নলকূপ পেয়ে যাবেন।"
কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, "অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"