
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬
শেরপুর: শেরপুর শহরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচারের দায়ে একটি ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শহরের মেসার্স বাবর ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল অবৈধ মজুদের উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে এবং ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারী—রবিন (ছয়ঘড়িপাড়া) ও জিয়াউর রহমানকে (গৌরীপুর) আটক করে।
মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা: পরবর্তীতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় অবৈধ মজুদ ও পাচারের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়।
উন্মুক্ত বিক্রয়: আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়। এতে প্রাপ্ত মোট ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধের পর আটক দুই কর্মচারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, "রাতে তেলসহ ভ্যানটি আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।"
এনডিসি রাজিব সরকার বলেন, "জ্বালানি তেলের যেকোনো অবৈধ মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
অভিযান শেষে জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ না করার জন্য সতর্ক করা হয়।