
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডিমলা (নীলফামারী) নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ‘নো ফুয়েল কার্ড, নো অয়েল’ নীতি কার্যকর হওয়ার পর জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের সেই দীর্ঘ লাইন আর বিশৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহক ও প্রকৃত যানবাহন মালিকরা।
আগে লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের ভিড় ও তেল মজুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পাম্পগুলোতে সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এখন গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলা সদরের ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টা থেকে তেল বিক্রি শুরু হলেও নেই কোনো উপচে পড়া ভিড়।
পাম্প এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করছেন। ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে লাইনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, যাদের এখনো কার্ড হয়নি, তাদের দ্রুত কার্ড করার পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে কৃত্রিম জটলা অনেকটাই কমেছে।
তেল নিতে আসা আহসান হাবীব ও রুহুল আমিন বলেন,
"আগে একজন ব্যক্তি একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে মজুদ করতে পারত। এখন কার্ড বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেই সুযোগ বন্ধ হয়েছে। আমরা যারা প্রকৃত ব্যবহারকারী, তারা এখন সহজেই তেল পাচ্ছি।"
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরাইজ্জামান বলেন,
"ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই। আগে যেখানে অনিয়ম ও অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা ছিল, এখন তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রকৃত ব্যবহারকারীরা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তেল পান।"
তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির বোরহান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনোভাবেই কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।
প্রশাসনের কড়াকড়িতে শৃঙ্খলা ফিরলেও যাদের কার্ড নেই, তারা তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একে নতুন ধরনের ভোগান্তি হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে, আফতাব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাসুম জানান, কার্ড সিস্টেমের কারণে এখন তেল দেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। তবে পেট্রোল পাম্প মালিকরা চাহিদার তুলনায় তেলের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার সকল যানবাহন মালিককে কার্ডের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এদিকে পার্বতীপুর অয়েল ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।