
(নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. মমিনুর রহমান (২৭) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের শোভানগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক মমিনুর রহমান বালাপাড়া এলাকার লতিফুর রহমানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মমিনুর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শোভানগঞ্জসহ ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকাসক্তদের কাছে গাঁজা সরবরাহ করে আসছিলেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ডিমলা থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল শোভানগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় মমিনুরের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বর্তমান সরকারের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং এলাকাকে মাদকামুক্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডিমলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মমিনুরকে পুলিশি পাহারায় নীলফামারী আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে তাঁকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “মাদক এই সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। মাদকাসক্তদের পাশাপাশি এর কারবারিদের ধরতে আমাদের বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কেউ যাতে ছাড় না পায়, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর। জনস্বার্থে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালিয়ে ডিমলাকে সম্পূর্ণ মাদকামুক্ত করার দাবি তুলেছেন।