
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর দেওয়া ৯টি কঠিন শর্ত পূরণ করতে না পেরে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৬ মে) ভোরে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সুফিরহাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার ওই এলাকার জবিউল ডাক্তারের ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে একই ইউনিয়নের আব্দুল মান্নানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে আনোয়ারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে স্ত্রী ইয়াসমিন স্বামীর সঙ্গে সংসার করার জন্য লিখিতভাবে ৯টি শর্ত জুড়ে দেন। শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
সংসারে শাশুড়ি বা ননদ কোনো কথা বলতে পারবে না।
দেনমোহরের পরিবর্তে ২০ শতাংশ জমি স্ত্রীর নামে লিখে দিতে হবে।
স্ত্রীর কোনো দোষ খোঁজা যাবে না এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে গায়ে হাত তোলা যাবে না।
বাবার বাড়ি যাওয়া-আসায় পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো কিছু আনার জন্য চাপ দেওয়া যাবে না।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াসমিনের দেওয়া এসব শর্ত আনোয়ারের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল। এ নিয়ে গত সোমবার (৪ মে) আনোয়ার তার শ্বশুরবাড়িতে বিচার চাইতে গেলে উল্টো শ্বশুর ও শাশুড়ির কাছে চরমভাবে অপমানিত হন। এই মানসিক যন্ত্রণা ও পারিবারিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজ বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সুফিরহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অযৌক্তিক শর্ত ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একজন যুবকের অকাল প্রয়াণে এলাকাবাসী সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।