
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অপবাদমূলক মন্তব্য, অযৌক্তিক হয়রানি এবং পেশাগত অমর্যাদার প্রতিবাদে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সকালে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যালায়েন্স (ফারিয়া), চাটখিল শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চাটখিল উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নজির আহমেদ হারুন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার ফোরামের সহ-সভাপতি রনি ঘোষ, ফারিয়ার প্রচার সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সুভজিত, উপদেষ্টা মনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম রনি এবং তথ্য বিষয়ক সম্পাদক রাহুল আল আমিনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে অপমান ও অপদস্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ৪ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরিচালিত অভিযানের সময় প্রতিনিধিদের গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমে তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজির আহমেদ হারুন বলেন, "ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা চিকিৎসকদের কাছে আধুনিক ওষুধের কার্যকারিতা, সঠিক ডোজ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছে দিয়ে চিকিৎসা সেবাকে সমৃদ্ধ করি। অথচ আমাদের পেশাদারিত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘দালাল’ বলে অপমান করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানহানিকর।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অথচ বর্তমানে তাদের পেশাগত স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবাদ সভা শেষে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন ফারিয়া নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে তারা মূলত ৫টি দাবি উত্থাপন করেছেন: ১. ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ২. আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে অযৌক্তিক গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ৩. গণমাধ্যমে প্রতিনিধিদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. স্বাস্থ্য প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত বৈঠকের আয়োজন করতে হবে। ৫. রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
স্মারকলিপিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। দেশের ঔষধ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং লক্ষ লক্ষ প্রতিনিধির সম্মান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, তারা সারাদেশে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। অন্যথায়, ঔষধ সরবরাহ ও তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হলে এর বিরূপ প্রভাব সাধারণ রোগীদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হলেও চাটখিলের ঔষধ প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।