
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নির্বিচারে বন উজাড় ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঝিনাইগাতী। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ অফিসের সামনে ‘সম্মিলিত সচেতন সমাজ’-এর উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আধাঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা একাত্মতা ঘোষণা করে পাহাড় রক্ষার জোরালো দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, একসময়ের সমৃদ্ধ গারো পাহাড় এখন ভূমিদস্যু ও কাঠচোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায় রাতের আঁধারে নির্বিচারে মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সম্মিলিত সচেতন সমাজের মুখপাত্র রহমত আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তারা বলেন, "শেরপুরের এই গারো পাহাড় আমাদের ফুসফুস। কিন্তু কতিপয় অসাধু মানুষের লোভে আজ আমাদের বন উজাড় হচ্ছে। বন্যপ্রাণী ও পাখিরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে, যা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিচ্ছে।"
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এস বি তানভীর আহমেদ ইমন। তিনি পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন—
সেভ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান) জেলা সভাপতি নাঈম ইসলাম।
ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল হক মনির।
বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সুবর্ণ।
বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সভাপতি পারভেজ মোশারফ।
‘ঝিনাইগাতী থেকে যা কিছু দেখেছি’-এর প্রতিষ্ঠাতা আতিকুর রহমান খান।
তারুণ্যের মঞ্চের আহ্বায়ক লুৎফর রহমান লাজু এবং রবিউল ইসলাম রুমান।
বক্তারা বলেন, শুধু গাছ কাটাই নয়, পাহাড়ের বুক চিরে বালু তোলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং কৃষি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে গারো পাহাড়ের সেই চিরচেনা রূপ হারিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের প্রতি কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়। পরিবেশকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন ও গাছ কাটা বন্ধ না হয়, তবে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তারা নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। গারো পাহাড়ের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।