
মনিরুজ্জামান লিমন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধভাবে পেট্রল মজুত এবং সাধারণ মানুষের কাছে অধিক মূল্যে তা বিক্রি করার অপরাধে রোজিনা আক্তার (৪০) নামে এক নারীকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১১ মে) বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলার তিনানী পাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ তিনানী পাড়া এলাকায় অবস্থিত 'পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশন'-এর ঠিক পাশেই স্থানীয় আইয়ুব মণ্ডলের স্ত্রী রোজিনা আক্তারের বসবাস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে বা অন্য কোনো উপায়ে নিজের বাড়িতে বড় পরিসরে পেট্রল মজুত করে আসছিলেন। এলাকায় পেট্রলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ চালকদের কাছে তিনি বাজার দরের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে এই জ্বালানি তেল বিক্রি করতেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অবৈধ মজুতের খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সোমবার বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালীন রোজিনা আক্তারের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ পেট্রল মজুতের সত্যতা পায় প্রশাসন। লাইসেন্স বিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে জনবসতি এলাকায় দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।
আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা অভিযুক্ত রোজিনা আক্তারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। দণ্ড ঘোষণার পর অভিযুক্ত নারী তার অপরাধ স্বীকার করেন এবং জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের মতো দাহ্য পদার্থ অবৈধভাবে মজুত করা যেমন দণ্ডনীয় অপরাধ, তেমনি এটি জননিরাপত্তার জন্যও চরম হুমকিস্বরূপ। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ফিলিং স্টেশনের পাশেই এভাবে অবৈধ দোকান গড়ে ওঠায় একদিকে যেমন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতো, অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের ঝুঁকিও ছিল। এই শাস্তির ফলে এলাকায় অন্যান্য অবৈধ মজুতদারদের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।