
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবক ও তার মায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। লিজ নেওয়া লিচু বাগান পাহারা দেওয়ার সময় মো: মেহেদী হাসান বাপ্পি নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার মা নূরজাহান পারভীন। সন্ত্রাসীরা তাদের গুরুতর জখম করে লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বাপ্পি তাদের লিজ নেওয়া লিচু বাগানে পাহারারত ছিলেন। ওই সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে ৫ ভাইসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাগানে প্রবেশ করে বাপ্পির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। ছেলের চিৎকার শুনে মা নূরজাহান পারভীন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও লাঞ্ছিত ও বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা বাপ্পির কাছে থাকা লিচু ব্যবসার ৩ লক্ষ টাকা এবং তার মায়ের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন, এই হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছর আগে সংঘটিত ‘সুমন হত্যা’ মামলার আসামিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন। বাপ্পির নানী কমেলা ওরফে কনা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ১৭ বছর আগে সুমনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও আজ পর্যন্ত তারা সঠিক বিচার পাননি। আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে ক্রমাগত তাদের ওপর নির্যাতন ও হুমকি ধামকি চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাপ্পিকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানায় নূরজাহান পারভীনের দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন পাঁচ ভাই— মো: মিঠুন, মো: ইফতিখার, মো: সালাম, মো: খায়রুল ও মো: আনোয়ারুল। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, সুমন হত্যা মামলার অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান, আরিফ, শিমুল, পিনার, রাজিবসহ ১৮ জন আসামির এই হামলায় পরোক্ষ মদদ রয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তিনি বলেন:
"বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে প্রকৃত দোষী বাপ্পি নিজেই। যদি কোনো মামলা নিতে হয়, তবে সেটি বাপ্পির বিরুদ্ধেই নিতে হবে।"
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত শত্রুতার জেরে বারবার হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের একটাই দাবি—সুমন হত্যার বিচার সম্পন্ন করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক এই হামলার হোতাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। তারা স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়।
হামলার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকা ছাড়ার হুমকির মুখে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশের পাল্টা অভিযোগের কারণে মামলা গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত নূরজাহান পারভীন ও তার স্বজনরা।