
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জানালার গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র দোকান থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় সাত লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। রোববার (১০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার আবাদপুকুর বাজারের আমিরপুর মার্কেটে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যস্ততম বাজারে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক আতিকুর রহমান সুমন জানান, আবাদপুকুর বাজারের আমিরপুর মার্কেটে তার ‘মেসার্স তাওহিদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের শোরুম রয়েছে। রোববার সারাদিন বেচা-কেনা শেষে রাতে যথারীতি দোকান তালাবদ্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সোমবার সকালে দোকান খুললে তার চোখ কপালে ওঠে। তিনি দেখতে পান দোকানের ক্যাশ ড্রয়ারগুলো ভাঙা এবং মালামালগুলো তছনছ করা অবস্থায় পড়ে আছে।
পরবর্তীতে দোকানের পেছনের দিকে গিয়ে দেখা যায়, চোরচক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে। চোরেরা দোকানের ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ দামী ইলেকট্রনিক্স পণ্য নিয়ে চম্পট দেয়।
দোকান মালিকের দেওয়া তথ্যমতে, চুরি হওয়া মালামালের তালিকায় রয়েছে:
টেলিভিশন: ৯টি
চার্জার ও সিলিং ফ্যান: ১৬টি (১০টি চার্জার ও ৬টি সিলিং)
রাইস কুকার: ১৩টি
অন্যান্য সরঞ্জাম: ৪টি ব্লেন্ডার, ৭টি আয়রন, ৮টি গ্যাস স্টোভ এবং ৭টি প্রেসার কুকার।
নগদ টাকাসহ সব মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৪০ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান সুমন।
আবাদপুকুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এই এলাকাটি বেশ জনবহুল। বাজারের একটি বড় মার্কেটে গ্রিল কেটে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় তারা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাতে বাজারে পাহারাদার থাকলেও কীভাবে এত মালামাল নিয়ে চোরেরা পালিয়ে গেল তা রহস্যজনক। তারা দ্রুত এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে রাণীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান:
"চুরির সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জানালার গ্রিল কেটে চোরেরা ভেতরে ঢুকেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকান মালিক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।