
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বাড়িতে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পতিশ গ্রামে সংঘটিত এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে পতিশ গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের বিবি কাউসারের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মাত্র একটি ‘গ্যাস লাইট’ চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে স্থানীয় মোহাম্মদ কিরণ, মো. রিশাত, একরাম হোসেন ও শামীমের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে বিবি কাউসারের স্বামী মো. নূর হোসেন শিপন ও দেবর সাহেদকে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় বাধা দিতে গেলে নারী ও শিশুদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা।
লিখিত অভিযোগে বিবি কাউসার দাবি করেন, হামলাকারীরা কেবল মারধরই করেনি, বরং ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। একপর্যায়ে তারা বাদীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এবং তার গলা থেকে আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ঘরে থাকা দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি দিদার হোসেন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
"আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অন্যায়কারী যে দলের বা যে মতেরই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"
তবে প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ কিরণ তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে একে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান,
"আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"
বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।