
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবকের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. রাসেল।
শনিবার (১৬ মে) চাটখিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী রাসেল উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের নিজ ভাওর এলাকার মরহুম আমিন উল্যাহর পুত্র।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেল জানান, গত ৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনের কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার আপন চাচা ছিদ্দিক উল্যাহর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই হামলায় অংশ নেয় তথাকথিত কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ, আরাফাত, সামির, শাওন, লিমন, রূপক ও সাইফুলসহ একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা রাসেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পাশের একটি খালে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রাসেলের দাবি অনুযায়ী, বিরোধের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের বন্যার সময়। সে সময় বন্যার তোড়ে তাদের ঘরের মাটি ধসে পড়াকে কেন্দ্র করে চাচার পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। ওই সময় তার বড় ভাবির ওপরও রড দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেন, কিন্তু বিবাদীরা তা অমান্য করে রাসেলের ওপর আক্রোশ বজায় রাখে। রাসেল আরও অভিযোগ করেন যে, তার চাচাতো ভাই প্রবাস থেকে তাকে হুমকি দিয়েছেন যে—প্রয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে হলেও তাকে প্রাণনাশের ব্যবস্থা করা হবে।
ভুক্তভোগী রাসেল সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি চাটখিল থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিবাদীদের অব্যাহত হুমকি এবং নানামুখী প্রভাবে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নোয়াখালী জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে রাসেল স্থানীয় সংসদ সদস্য, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রতি জোর দাবি জানান, যেন এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়। একইসঙ্গে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।