
আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
নালিতাবাড়ী (শেরপুর): শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরে তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক রোগীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ভ্যানগাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার গুজাকুড়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে। তাঁর এই অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ: পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়। দ্রুত সুচিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একটি ভ্যানগাড়িতে করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন।
কিন্তু পৌর শহরের আড়াইআনী এলাকা থেকে তারাগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত সড়কে ভয়াবহ যানজট থাকায় রোগীবাহী ভ্যানগাড়িটি সেখানেই আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় তীব্র গরম ও যানজটের মধ্যে আটকা থাকায় আমিনুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ভ্যানগাড়ির ওপর ছটফট করতে করতে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের আহাজারি: আমিনুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, নালিতাবাড়ী শহরের যানজট যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "যদি রাস্তা পরিষ্কার থাকত, তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম। সময়মতো অক্সিজেন বা ডাক্তার পেলে হয়তো আমিনুলকে বাঁচানো যেত। এই অব্যবস্থাপনার দায় কে নেবে?"
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষোভ: নালিতাবাড়ী শহরের বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন অনিয়ন্ত্রিত যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে বাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং ট্রাফিক পুলিশের দুর্বল তদারকির কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শুধু আমিনুল ইসলাম নন, প্রায় প্রতিদিনই মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছে।
সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং প্রধান সড়কগুলোকে যানজটমুক্ত না করলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নালিতাবাড়ী প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।