
আলমগীর হোসেন সাগর, স্টাফ রিপোর্টার:
শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ (২২) নামে এক তরুণ অটোরিকশাচালককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর তাঁর মরদেহ পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে রেখে যায় ঘাতকরা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের স্থল থেকে এক নারীর ওড়না, এক জোড়া জুতা ও চুলের ব্যান্ড উদ্ধার করায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রহস্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বগারভিটা এলাকার একটি গজারি বনের পাশের মাঠ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মেহেদী হাসান আসিফ উপজেলার ডোয়াইবাড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং ওই উপার্জনেই তাঁর পরিবার চলত।
নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আসিফ। সাধারণত রাত ১১টার মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। কিন্তু বুধবার গভীর রাত হয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ছেলের ফোন বন্ধ পেয়ে আমরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি। অন্য চালকদের কাছেও খবর নেই, কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছিল না। ফজরের আজানের পর বাড়ির কাছেই একটি নির্জন স্থানে আসিফের অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে আমাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরে সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বগারভিটা এলাকায় তাঁর নিথর ও গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।"
ঘটনাস্থলে রহস্যময় আলামত: স্থানীয়রা জানান, বগারভিটা এলাকার গজারি বনের পাশের মাঠে আসিফের মরদেহটি পড়ে ছিল। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মরদেহের ঠিক পাশেই পড়ে ছিল এক নারীর ওড়না, এক জোড়া জুতা এবং মাথার চুলের ব্যান্ড। এই আলামতগুলো হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো নারীঘটিত বিষয় বা ভিন্ন কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশের বক্তব্য: খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর ওড়না, জুতা ও চুলের ব্যান্ডের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি। এটি নিছক ছিনতাই নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শত্রুতা বা নারীঘটিত কোনো যোগসূত্র আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।"
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আসিফের সহকর্মী অটোরিকশাচালকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।