
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে চলতি মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা
ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে ঝিনাইগাতী উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সোহেল রানার সুদক্ষ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম এবং খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আলম।
এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শাহজাহান আকন্দ, সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন ধানকলের (রাইস মিল) মালিক, স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রকৃত কৃষক এবং চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে সরাসরি এই খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের সংগ্রহ অভিযানে কেজিপ্রতি ৪৯ টাকা দরে মোট ২ হাজার ৬১৯ মেট্রিক টন চাল এবং কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে মোট ১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কৃষক দেশের চালিকাশক্তি। আমাদের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের উৎপাদিত ধানের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, ধান ও চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না থাকে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। কোনো প্রকৃত কৃষক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মিল মালিক এবং কৃষকদের প্রতি সততা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জোরালো আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই সরকারি উদ্যোগের ফলে ঝিনাইগাতীর সাধারণ কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সরকারের খাদ্য মজুত ভাণ্ডারও আরও সমৃদ্ধ হবে।