
আবুল হাশেম, রাজশাহী প্রতিনিধি: আগামী দুই মাসের মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নবাগত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
১৭ মে ২০২৬ (রবিবার) সকাল ১১টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহীতে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরিচিতি ও বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
পরিচিতি পর্ব শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে নবাগত আরএমপি কমিশনার বলেন, "রাজশাহী মহানগরীতে মাদক, জুয়াসহ সব ধরনের কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
একই সঙ্গে পুলিশি কার্যক্রমকে অধিকতর সেবামূলক, জনবান্ধব ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করতে আরএমপির সব ইউনিটকে কার্যকর ভূমিকা পালনের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাননীয় আইজিপির বিশেষ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, "পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়সহ মেট্রোপলিটন পুলিশের সব ইউনিটে সেবা নিতে এসে কোনো সাধারণ ব্যক্তি যেন আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে এসে আইনি সেবা পাবে।"
মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে— থানায় মামলা রুজু, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা এবং বিদেশগামীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকরা যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি বা দালালের হয়রানির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
পাশাপাশি রাজশাহী নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, যানজট নিরসন, ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় আরএমপির সব স্তরের পুলিশ সদস্যদের স্বাধীনভাবে, শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন নতুন কমিশনার। রাজশাহী মহানগরীকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে অপরাধ অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও সম্প্রতি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম এবং আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ গাজিউর রহমান, পিপিএম।
এছাড়াও রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও ব্যুরো প্রধানগণ এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।