
আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাত বছরের শিশুকন্যা সানজিদা খাতুন হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ১০ দিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা।
সোমবার (১৮ মে) ভোরে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কালাকুমা এলাকায় নিজ বাড়িতে ফেরার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে ছিলেন।
নিহত শিশু সানজিদা খাতুন উপজেলার পানিহাটা এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। মা জামেনা বেগম মারা যাওয়ার পর থেকেই অবুঝ শিশুটি কালাকুমা এলাকায় নানী চাঁনভানুর বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ মে বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে হঠাৎ করেই শিশু সানজিদাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িতে খুঁজেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন ৮ মে বিকেলে এলাকাবাসীর মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে শিশুটিকে সর্বশেষ কালাকুমা এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে চাঁনু পাগলার ছেলে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির খালা সখিনা বেগম অভিযুক্ত বিল্লালের বাড়িতে গিয়ে সানজিদার ব্যাপারে খোঁজ নেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিল্লালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে শিশু সানজিদাকে হত্যার কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন। একই সাথে তিনি জানান, শিশুটির নিথর মরদেহ তার নিজের বাড়ির টিনশেড টয়লেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত ওই টয়লেটে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নালিতাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান ঘাতক বিল্লাল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। অবশেষে সোমবার সকালে তিনি গোপনে নিজ এলাকায় পা রাখতেই ওত পেতে থাকা পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, “শিশু সানজিদা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিল্লাল হোসেনকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কোনো কারণ বা কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।”