
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলায় সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি কোটা ও নিয়োগ পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা তদবির ছাড়াই যোগ্য প্রার্থীরা এই চাকরি পেয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৮টায় শেরপুর পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। টিআরসি নিয়োগ কার্যক্রমের সকল ইভেন্টে কৃতকার্য প্রার্থীদের লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণা করেন শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম।
কোনো প্রকার ঘুষ কিংবা তদবির ছাড়া, মাত্র সরকারি ফি দিয়ে শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি পেয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফলাফল ঘোষণার পর পরই অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পুলিশের এই যুগান্তকারী ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফলাফল ঘোষণা শেষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় পুলিশ সুপার মহোদয় উত্তীর্ণ সকলকে সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে দেশসেবার ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আজকের এই স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে যারা পুলিশে যুক্ত হলেন, তারা আগামী দিনে একটি জবাবদিহিমূলক ও সেবামূলক পুলিশ বাহিনী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।"
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সম্মানিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোরশেদা খাতুন এবং নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব হাফিজুল ইসলাম।
এছাড়াও শেরপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
শেরপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদের ২৫টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং শেষে মোট ২ হাজার ১৯২ জন প্রার্থী শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেন। শারীরিক পরীক্ষার বিভিন্ন কঠিন ধাপ পেরিয়ে ৩৯৩ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় ৮৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন। চূড়ান্ত ভাইভা ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে মেধার ভিত্তিতে ৩ জন নারী এবং ২২ জন পুরুষসহ মোট ২৫ জনকে প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগের জন্য আরও ৫ জন প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ (Waiting List) তালিকায় রাখা হয়েছে।