
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। ৩০ মণেরও বেশি ওজনের এই রাজকীয় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। দানবীয় আকৃতির এই গরুটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। খামারি গরুটির দাম হাঁকিয়েছেন ১২ লাখ টাকা।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের রাজ্জাকপুর গ্রামের ‘গরীব উল্লাহ মৎস্য ও গবাদি পশু খামারে’ হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছেন খামারি আলী আকবর বাহার।
খামার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ‘রাজাবাবু’র বয়স প্রায় তিন বছর। এর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট। বিশাল আকৃতির এই গরুটিকে সুস্থ ও শান্ত রাখতে দিনরাত চলছে বিশেষ পরিচর্যা।
রাজাবাবুর দৈনিক খাদ্য তালিকায় যা থাকে:
উন্নত মানের দানাদার খাদ্য ও গমের ভুসি।
পরিমাণমতো শুকনো খড় ও কাঁচা ঘাস।
নিয়মিত পুষ্টিকর ফলমূল ও পরিষ্কার পানি।
খামারের পরিচ্ছন্ন ও ঠাণ্ডা পরিবেশে চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটিকে বড় করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চাটখিল এলাকায় এত বড় এবং আকর্ষণীয় গরু আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ রাজাবাবুকে দেখতে খামারে আসছেন। অনেকে দল বেঁধে এসে সেলফি তুলছেন, যা ঘিরে পুরো এলাকায় একটি আগাম উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কেয়ারটেকারের বক্তব্য: গরুটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রেজাউল মমিন বলেন, "ছোটবেলা থেকেই রাজাবাবুকে নিজের সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করেছি। ওর পেছনে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। চিকিৎসকের চার্ট অনুযায়ী ওকে খাবার ও গোসল করানো হয়।"
খামারি আলী আকবর বাহার অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে বলেন, "অনেক স্বপ্ন আর কষ্ট বুকে নিয়ে গরুটি লালন-পালন করেছি। এটি সম্ভবত পুরো নোয়াখালী জেলার সবচেয়ে বড় গরু। আশা করছি ন্যায্য দাম পাব। তবে বিশাল আকৃতির কারণে এই ষাঁড়টি হাটে আনা-নেওয়া করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। তাই আমি চাচ্ছি কোনো ক্রেতা বাড়ি থেকেই এটি দেখে পছন্দ করে কিনে নিয়ে যাক।"
চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, "আলী আকবর বাহার আমাদের কার্যালয় থেকে আধুনিক গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা লক্ষ্য করে এই হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি প্রস্তুত করেছেন। নোয়াখালী জেলায় সম্ভবত ৩০ মণ ওজনের এত বড় গরু আর দ্বিতীয়টি নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বর্তমানে বাজারে যেভাবে গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়েছে, তাতে খামারিদের উৎপাদন খরচ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি, খামারি বাহার রাজাবাবুর ন্যায্য মূল্য পাবেন। তিনি লাভবান হলে অঞ্চলের অন্য যুবকেরা ও প্রান্তিক খামারিরা ভবিষ্যতে এমন বড় বড় গরু লালন-পালনে আরও উৎসাহিত হবেন।"