
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১৪) এক সফল মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মো. রাজু মিয়া (২০) নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার জোলগাঁও নতুন সড়ক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে র্যাব-১৪-এর জামালপুর ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সিপিসি-১, র্যাব-১৪, জামালপুরের একটি চৌকস আভিযানিক দল মাঠে নামে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইগাতী থানার জোলগাঁও নতুন সড়ক বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় র্যাব।
এ সময় র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে এক যুবক কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। তখন র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে মো. রাজু মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৬০ পিস অবৈধ ও নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু মিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, সে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা থেকে এই অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে শেরপুর জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল।
"মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আমাদের এমন ঝটিকা অভিযান আরও জোরদার করা হবে।"
— মেজর লাবিদ আহমেদ, কোম্পানি কমান্ডার, র্যাব-১৪
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রাতেই ঝিনাইগাতী থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, র্যাবের মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি রাজু মিয়াকে আজ বুধবার দুপুরে যথাযথ পুলিশি পাহারায় শেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের উৎসের সন্ধানে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।