
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, "মুক্তিযুদ্ধকে আমরা হৃদয়ে ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কোনো দল বা ব্যক্তি—যেই হোক না কেন, যদি মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তবে তাদেরকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।"
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান, এতে আমরা গর্ববোধ করি।"
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, "আজ যারা ১৯৭১ সালকে মুছে ফেলতে চায়, তারা জেনে রাখুক—বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। তারা বাংলাদেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বোকা নয়।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এরপর বারে বারে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে বহু আন্দোলন হয়েছে। আরও আন্দোলনের দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষ তা করবে। কিন্তু ১৯৭১ সাল ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখা হবে, আর আমরা শহীদ জিয়ার আর্দশের সৈনিকেরা চেয়ে চেয়ে দেখব—সেটা কোনো দিনই হবে না।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে এবং পাকহানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য গ্রামে গ্রামে চষে বেড়িয়েছে, আজ তাদের দলের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি টকশোতে শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে মিরপুরের এমপি বাতেন প্রকাশ্যে বলেছেন, 'পাকিস্তান ভালো'। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। অথচ আমাদের জন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটাই আমাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়। এর সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না।"
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, "গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি এবং সকল সমমনা দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। সেই সময় শত শত হত্যাকাণ্ড ও গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইলিয়াস আলীসহ বহু নেতৃবৃন্দ গুম হয়েছেন। এগুলো কি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট রচনা করার জন্য কোনো ভূমিকা রাখে নাই? অবশ্যই রেখেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৭ বছর বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তির জন্যই ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই মাস থেকে জাতীয়তাবাদী দল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেছে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলেরই ১৪৮ জন পদধারী নেতা জীবন দিয়েছেন।"
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:
ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সংসদ সদস্য, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী)।
পরান চৌধুরী, চেয়ারম্যান, ইউএস চ্যারিটেবল ট্রাস্ট।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিন উদ্দিন।
মনোষ দাস, সহকারী পুলিশ canসুপার (চাটখিল)।
এডভোকেট আবু হানিফ, আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি।
মোস্তফা কামাল, সাবেক মেয়র ও আহ্বায়ক, পৌরসভা বিএনপি।
আহসানুল হক মাসুদ, সদস্য সচিব, পৌরসভা বিএনপি।
শামসুল আরেফিন শামীম, সাবেক আহ্বায়ক, পৌরসভা বিএনপিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।