
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে একটি বসতবাড়িতে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাড়িটির আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ সব কিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে সব হারিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার কালীগ্রাম দিঘীরপাড়া গ্রামের বেলাল সোনারের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলাল সোনার তাঁর পরিবারের লোকজন নিয়ে একটি বিয়ের দাওয়াত খেতে বাড়ি তালাবদ্ধ করে শ্বশুরবাড়িতে যান। বুধবার সকালে বাড়িটি জনশূন্য থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই ঘরের ভেতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখেন প্রতিবেশীরা।
এ সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তারা ব্যর্থ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রাণীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরের টিনের চালা, ভেতরে থাকা ফ্রিজ, টেলিভিশন, পরিধেয় বস্ত্র, বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বেলাল সোনারের বড় ভাই সেলিম সোনার জানান, আগুনে তাঁর নিজের বাড়িরও বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেলালের ঘরের কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বেলালের বাড়ির এমন অবস্থা হয়েছে যে একটা সুতার কাপড়ও রক্ষা করা যায়নি। সব হারিয়ে পরিবারটি আজ থেকে খোলা আকাশের নিচে গিয়ে দাঁড়াল।"
"খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে হয়তো আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।"
— সেলিম হোসেন, সিনিয়র ফায়ারফাইটার, রাণীনগর ফায়ার সার্ভিস
একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বেলাল সোনারের পরিবার যখন দিশেহারা, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সার্বিক ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।