
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
পঞ্চগড়ের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘আদর্শ ক্লিনিক’-এ তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (১০ জুন) রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আদর্শ ক্লিনিকে চিকিৎসা ও প্রসবসংক্রান্ত সেবা গ্রহণের সময় একজন প্রসূতি মা এবং দুটি নবজাতকের মৃত্যু হয়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পরপর তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ— চিকিৎসকদের চরম অবহেলা, ভুল চিকিৎসা এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বুধবার রাতে সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার ও লেবার রুম সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই সাময়িকভাবে ওটি ও লেবার রুম বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর যদি কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে আদর্শ ক্লিনিকে পরপর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষী চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়ের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।