
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়সূচির একদিন আগেই গোপনে এক পরীক্ষার্থীর তিনটি বিষয়ের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে। কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক বা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিশেষ অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় শিক্ষা মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গত ৮ ও ৯ জুন ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়সূচি লঙ্ঘন করে গত ৭ জুন কেন্দ্র সচিব আনিসুর রহমানের একক উদ্যোগে অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী তনুশ্রী দত্তের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান— এই তিন বিষয়ের ব্যবহারিক এবং মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই গোপন পরীক্ষা গ্রহণের সময় নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত বিষয়ভিত্তিক কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। কেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির একটি কক্ষে বিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত ৯ জুনের উপস্থিতি তালিকায় ওই পরীক্ষার্থীর পক্ষে অগ্রিম স্বাক্ষরও করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কেন্দ্র সচিব ও জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “পরীক্ষার্থীর বাবা এবং তার নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিশেষ অনুরোধে আমি এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম।” তবে বোর্ডের নিয়ম ভেঙে এককভাবে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
কোনো অনৈতিক বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষার্থীর বাবা শুধু আমাদের চা-নাস্তার খরচ দিয়েছিলেন।” তবে ল্যাব সহকারীর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অকপটে স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন, “পাবলিক পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থীকে এককভাবে বা নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন ও অনুমতি নিতে হয়। জগদল কেন্দ্রের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পাবলিক পরীক্ষার এমন সংবেদনশীল বিষয়ে কেন্দ্র সচিবের এই খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা শতভাগ প্রমাণিত, যা স্পষ্টতই পাবলিক পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল। পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষার্থে দায়ীদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।