
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো:
স্কুলগামী মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পিরিয়ডকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার কমাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
সম্প্রতি উপজেলার রহমতউল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মনিগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ভেন্ডিং মেশিন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে হাইজিন (স্বচ্ছতা), পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এ সময়ে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক সময়ই অসচেতনতা বা লজ্জার কারণে কিশোরীরা পিরিয়ডের সময় অস্বাস্থ্যকর উপায় অবলম্বন করে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার অনেক ছাত্রী এই বিশেষ দিনগুলোতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ সময়ে শিক্ষার্থীরা যাতে একদম স্বল্প মূল্যে এবং হাতের নাগালে মানসম্মত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে ছাত্রীরা অত্যন্ত সহজে ও গোপনীয়তা বজায় রেখে স্বয়ংক্রিয় এই মেশিন থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, স্কুল পর্যায়ে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং পিরিয়ডকালীন সময়ে ক্লাসে অনুপস্থিতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ। এটি কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধনের পর ছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রশাসন আরও জানায়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০টি বিদ্যালয়ে এটি চালু করা হলেও পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।