সাইফুল আলম দুলাল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা): নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সাত বছরের এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগে তার জন্মদাতা পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাইদুল ইসলাম (৫৫) উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ছোবহানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন গ্রাম পুলিশ এবং বর্তমানে কেন্দুয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় একটি মুদি দোকানে কয়েল ও তার ছোট সন্তানের জন্য বিস্কুট কিনতে যান। ঘরে কেউ না থাকার এই সুযোগে সাইদুল ইসলাম তার নিজের শিশুকন্যার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার রাতে ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু না বললেও, পরদিন ১২ জুন তার বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে সে পুরো বিষয়টি মাকে খুলে বলে।
ঘটনা জানার পর, ১২ জুন দিবাগত রাত ১২টার পর (১৩ জুন) শিশুটির মা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় স্বামী সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ১০ সন্তানের জনক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের দুটি সংসার রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১০ সন্তানের জনক। তার প্রথম সংসারে ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে এবং দ্বিতীয় সংসারে ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হওয়া সাত বছরের এই শিশুটি তার দ্বিতীয় সংসারের তৃতীয় সন্তান।
মামলার এজাহার দায়েরের পরপরই কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর শহর থেকে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ মুঠোফোনে জানান, "নিজের সাত বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে আজ (শনিবার) আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।