আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬
বাঘা (রাজশাহী): পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার জনপদ রক্ষায় অবশেষে শুরু হয়েছে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ। রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু সাইদ চাঁদের বিশেষ তৎপরতা ও ডিও পত্রের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শনিবার (১৩ জুন) বাঘা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চকরাজাপুর ইউনিয়নে নদী ভাঙন ঠেকাতে ১৮০ ফিট এলাকায় জিআই ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলার কাজের শুভ উদ্বোধন ও স্থান নির্ধারণ করা হয়।
নদী ভাঙন রোধে কাজের উদ্বোধন ও এলাকা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন:
প্রবির কুমার গোস্বামী, প্রকৌশলী, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জগলু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক, চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি।
শফিকুল ইসলাম, সভাপতি, চকরাজাপুর ইউনিয়ন যুবদল। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের লেটারহেডে পানি সম্পদ মন্ত্রী বরাবর একটি জরুরি ডিও পত্র পাঠান স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আবু সাইদ চাঁদ। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অন্যতম বৃহত্তম জলধারা পদ্মা নদী প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পলি বহন করায় নদী অববাহিকায় অস্থায়ী চরের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পাড় ভাঙন প্রবণতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিবছরই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ রক্ষায় আসন্ন বন্যার আগেই ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ ও আইরিং নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ভাঙনপ্রবণ এই জনপদে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পদ্মা পাড়ের মানুষের চোখে ঘুম থাকে না। সময়োপযোগী এই উদ্যোগের ফলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী আপাতত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে জিআই ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, যা ভাঙন মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।