আলমগীর হোসেন সাগর, স্টাফ রিপোর্টার
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬
শ্রীপুর (গাজীপুর): দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে থাকা গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। প্রায় এক যুগ ধরে চলমান এই জনদুর্ভোগ নিরসনে অবশেষে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
প্রকল্পের উদ্বোধনকালে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
নাহিদ ভুঞা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), শ্রীপুর।
বিল্লাল হোসেন বেপারী, সদস্য সচিব, শ্রীপুর পৌর বিএনপি।
এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, বিএনপি নেতা।
এস এম আবুল কালাম আজাদ, কৃষকদল নেতা। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যেত। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত পোহাতে হতো অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ত; অনেক সময় বসতবাড়ি ও আশপাশের আঙিনায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হতো।
১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১৫০ মিটার ড্রেন ও রাস্তা শ্রীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ প্রকল্পের বিবরণ দিয়ে জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ১৫০ মিটার ড্রেন এবং ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হবে। পুরো প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকার বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের স্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে রাস্তার উন্নয়ন সম্পন্ন হলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও টেকসই রূপ পাবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো রকম অনিয়ম ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়। এর মাধ্যমে এক যুগের জলাবদ্ধতা ও চলাচল সংকটের স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং এলাকার সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।