
মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নৌ-ঘাট থেকে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর ওপর দেশের ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বাহাদুরাবাদ নৌ-টার্মিনালের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাহাদুরাবাদ-বালাসী নৌ-পথ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে এ নৌপথে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলম লাভলু (সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপি): “বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে জামালপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে এবং মানুষের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
মাসুদ হাবিব পলিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি): “এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হলো যমুনা নদীর ওপর একটি সেতু। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করুক।”
আরিফ খান রাসেল (সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ): “আমাদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাবাসীর দাবি একটাই—বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে সেতু চাই। এই সেতু নির্মাণ হলে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮টি জেলার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। তাই অবিলম্বে সরকারের কাছে এই সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”
মঞ্জু হোসেন মঞ্জু (আহবায়ক, উপজেলা যুবদল): “বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে ২য় যমুনা সেতু নির্মাণ দেওয়ানগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। এই দাবি অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও বড় ধরনের কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মনিরুজ্জামান মনির: “দেশের ২য় যমুনা সেতু বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে নির্মাণ হলে যমুনার দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। তাই আমি জোর দাবি জানাই যেন এই রুটেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।”
মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুধীজনরা একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, এই সেতুটি নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। যা আঞ্চলিক উন্নয়ন, কৃষি পণ্যের বিপণন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা অবহেলিত এই জনপদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আকুতি জানান।