
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো. শাহদাত (২৩) নামে এক ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শাহাদাত ওই ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
গুলিবিদ্ধ শাহাদাতের বড় ভাই ও স্থানীয় যুবদল নেতা মো. হাবীব অভিযোগ করে বলেন, "শাহাদাত ছাত্রদল এবং আমি খিলপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আসছিলাম। ওই স্ট্যাটাসের জের ধরে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের দুই ভাইকে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মফিজ ভূঞা ও রহিম হাজীর ইন্ধনে কিছু যুবলীগ নেতা শাহাদাতের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে যুবলীগ নেতা জাবেদ, মোরশেদ, মাসুম ও রিয়াদের নেতৃত্বে শাহাদাতকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে শাহাদাতের তলপেট ও উরুতে ২৬টি ছররা গুলি লাগে।" পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মফিজ ভূঞা ও রহীম হাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এই বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বিকেলে এলাকার কিশোরদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে রাতে অভিভাবকরা দুই পক্ষ হয়ে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।"
তিনি আরও বলেন, "শাহাদাতের পরিবার গুলিতে আহত হওয়ার অভিযোগ করলেও, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে গুলি ছোড়ার কোনো আলামত পায়নি। তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"