
আশিকুর রহমান, গাজীপুর:
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬
গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (গাসিক) নতুন নীতিমালার আওতায় ডোর-টু-ডোর (বাসাবাড়ি থেকে সরাসরি) বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ঠিকাদার হিসেবে মেসার্স জান্নাতুল এন্টারপ্রাইজ-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) নগর ভবনের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহাম্মদ (হারুন) গাসিকের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার-এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমতিপত্র গ্রহণ করেন। মোস্তাক আহাম্মদ (হারুন) ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের খরতৈল এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই এলাকায় সুনামের সাথে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করে আসছেন।
অনুষ্ঠানে গাসিক প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, "নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহের নামে যে অনিয়ম ও ইচ্ছামতো অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি ছিল, তা আর থাকবে না। নতুন নীতিমালার আওতায় বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত সর্বনিম্ন সেবামূল্য আদায় করা হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে সতর্ক করা হবে। এরপরও সংশোধন না হলে চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরবাসীকে সাশ্রয়ী, সুশৃঙ্খল ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্নতা সেবা নিশ্চিত করাই গাসিকের মূল লক্ষ্য।
গাসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর আটটি অঞ্চলের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫১টি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে জমা পড়া ৭৯টি আবেদন থেকে অভিজ্ঞ ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ২৩ জুন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানার স্বাক্ষরে এই অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়।
অনুমতিপত্র গ্রহণের পর মেসার্স জান্নাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহাম্মদ (হারুন) বলেন, "টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করেই আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম আমাদের রয়েছে। বর্তমানে তিনটি নসিমন ও ১৪ জন কর্মী কাজ করছেন। ওয়ার্ডবাসীর সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও যানবাহন ও জনবল বাড়ানো হবে।"
তবে খরতৈল এলাকায় একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বর্জ্য অপসারণে নানা সমস্যা পোহাতে হয় উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ওই এলাকায় একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) বা ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।