
রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা, চিকিৎসকবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বামুনিয়া এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মোকসেদুল ইসলাম ৫ নভেম্বর বুকের ব্যথা ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু জাহিদ বসুনিয়া-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রোগী ও তাঁর পরিবারের সম্মতিতে করোনারি এনজিওগ্রাম এবং স্টেন্ট স্থাপন (রিং বসানো) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৬ নভেম্বর বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এনজিওগ্রাম এবং স্টেন্ট স্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তবে, রোগী সিসিইউতে নেওয়ার পথে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়। ক্যাথল্যাব টিম তৎক্ষণাৎ সিপিআর (CPR) এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে।
আইসিইউতে অবস্থার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে রোগী দ্বিতীয়বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত আচরণ করতে থাকেন। তাদের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়।
হাসপাতাল প্রশাসন বলেন:
“আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে রোগীর যত্ন নিয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও উন্নত যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”