1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩ নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হলেন ডিমলার রওশন কবির ঝিনাইগাতীতে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন জোরদারে এমসিজিএলের ফান্ড মোবিলাইজেশন সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত, কৃষি প্রযুক্তি প্রসারে নতুন প্রত্যাশা

ঝিনাইগাতীতে রঙিন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে
গারো সম্প্রদায়ের ওয়ানগালা উৎসবে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করছেন অংশগ্রহণকারীরা—ঝিনাইগাতী, শেরপুর।
ঝিনাইগাতীতে গারোদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপনী।

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি :
নানা ধর্মীয় আচার, সংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সামাজিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওয়ানগালা। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু।

তিন দিনব্যাপী এই উৎসব ঘিরে আয়োজন করা হয় কিশোর–কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মান্দি ছড়া ও নৃত্য, মিস ওয়ানগালা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, খেলাধুলা, বাণী পাঠ, থক্কা প্রদানসহ পবিত্র খ্রিস্টযাগ ও প্রার্থনা। এছাড়া নকগাথা পরিবেশনাও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।

প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি বলেন,
“ওয়ানগালা কেবল উৎসব নয়—এটি কৃতজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য সেতুবন্ধন। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতিতে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং বলেন,
“এই উৎসব আমাদের পরিচয় ও বিশ্বাসকে ধারাবাহিকভাবে জীবিত রাখে। মিলন, শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয় ওয়ানগালা।”

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান,
“১৯২৫ সালে শুরু হওয়া ওয়ানগালা ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। গারো সংস্কৃতিকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।”

আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গারোদের সবচেয়ে বড় শস্য–কৃতজ্ঞতার উৎসব ‘ওয়ানগালা’। ‘ওয়ানা’ মানে দেবদেবীর দানের সামগ্রী আর ‘গালা’ মানে উৎসর্গ। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর কৃতজ্ঞতা জানাতেই ওয়ানগালা পালন করা হয়। বর্ষা শেষে শীত আসার আগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং এর আগে নতুন শস্য ভোগ করা নিষিদ্ধ থাকে।

অনেকে এটিকে নবান্ন বা ধন্যবাদ উৎসবও বলে থাকেন। ‘একশ ঢোলের উৎসব’ হিসেবে পরিচিত ওয়ানগালায় গারোদের বিশ্বাস, শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’-এর কৃপায় ভালো ফলন হয়। সেই কৃতজ্ঞতা নৃত্য–গীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, সঙ্গে থাকে পরিবারের শান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনা।

তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার বিকেলে রঙিন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ওয়ানগালা উৎসবের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট