
নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর | আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শেরপুরের রাজনৈতিক ময়দান। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের দাপটে নানামুখী চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিদ্রোহ এবং জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর একক অবস্থানের কারণে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেরপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তবে তাঁর মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদুল ইসলামও ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও তিনি আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে এ আসনেও বিএনপিকে চাপে রাখছেন বিদ্রোহী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। বিশেষ করে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়ার জনসংযোগ তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
শেরপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তিনবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবলকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না। শ্রীবরদী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় বিপাকে পড়েছে রুবলের সমর্থকরা। এছাড়াও এ আসনে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ নূরুজ্জামান বাদল শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
স্থানীয় রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির অনেক দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা এবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এককভাবে মাঠে থাকায় ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এনসিপি’র মতো ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী স্বতন্ত্রদের সমর্থন দিচ্ছেন।
তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কোনো ব্যক্তি নয়, আমাদের কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে চিন্তা করার কিছু নেই।”