
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি: সারা দেশে যখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ তুঙ্গে, তখন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্তব্ধ এক চিত্র দেখা যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও উৎসবমুখর পরিবেশের বদলে দুই উপজেলা জুড়ে এখন বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা।
গত বুধবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর থেকেই আসনটিতে সব ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাশের শেরপুর-১ ও শেরপুর-২ আসনে ভোটের লড়াই নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা থাকলেও শেরপুর-৩ এর চিত্র একদম উল্টো। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা গ্রামীণ জনপদে কোনো মাইকিং নেই, নেই পোস্টার বা লিফলেট। ভোট নিয়ে কোনো আলোচনা না থাকায় জনপদে বিরল এক নীরবতা নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে শোক, অন্যদিকে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল কাজ করছে।
নির্বাচনী স্থবিরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমেও শূন্যতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম একটি মামলায় অভিযুক্ত থাকায় এবং অনেক নেতাকর্মী এলাকাছাড়া থাকায় মাঠে রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ছে না। যদিও কিছু নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন, তবুও প্রার্থীর মৃত্যু ও নির্বাচন স্থগিতের ফলে কেউ মাঠে নামছেন না।
এখন সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—কবে আবার এই আসনে ভোট হবে? কে হবেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পরবর্তী কাণ্ডারি? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী উৎসবের মৌসুমে শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এখন শুধুই শূন্যতা আর প্রতীক্ষার প্রহর কাটানো এক জনপদ।