
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি | ১ মার্চ, ২০২৬
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ‘চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে আয়েশা আক্তার (২৪) নামে এক প্রসূতি নারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাফিয়া ইসলামের ভুল অস্ত্রোপচারে জরায়ু কেটে ফেলায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাটখিল উপজেলার ধর্মপুর পালের বাড়ির রুবেলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা আগে জানিয়েছিলেন স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্ভব। তবে ভর্তির পর হাসপাতালের স্টাফরা দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী:
দুপুর ১টার দিকে পার্শ্ববর্তী বারাকা হাসপাতাল থেকে ডা. রাফিয়া ইসলামকে ডেকে এনে অপারেশন শুরু করা হয়।
অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলা হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়।
বর্তমানে আয়েশা আক্তার গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবা আহসান উল্লাহ জানান:
“আমার মেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে ৪ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার ভুল স্বীকার করে সব খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২-৩ দিন ধরে ডাক্তারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল কেটে দিচ্ছেন। কোনো যোগাযোগ করছেন না।”
এ বিষয়ে চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালের ম্যানেজার মোহাম্মদ সামিম ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা রোগীর পরিবারের সাথে ডাক্তারের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছি। ডাক্তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”
তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাফিয়া ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।