
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। সোমবার (২ মার্চ) এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচিকে জানান, তেহরানের আত্মরক্ষার অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
শনিবার থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় শত শত মানুষ নিহতের ঘটনার পর এই কূটনৈতিক অবস্থান জানাল চীন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াং ই তেহরানকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ও ইরানের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর। তিনি বলেন:
ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সব সময় পাশে থাকবে।
তেহরানের জাতীয় মর্যাদা ও বৈধ স্বার্থ সুরক্ষায় বেইজিং সমর্থন দিয়ে যাবে।
চীন স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের সামরিক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াং ই সতর্ক করে বলেন, এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে, যা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি।
একই দিনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সাথে ফোনালাপে ওয়াং ই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, চীন বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে এবং নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে কাজ করতে ইচ্ছুক।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপকালে ওয়াং ই বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলের আইনে প্রত্যাবর্তনের’ ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো পরাশক্তি তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জোরে অন্য দেশের ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না।
ইরানের পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত চারজন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চীনের এই সমর্থন তেহরানের জন্য বড় ধরণের কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।