
রাজশাহী প্রতিনিধি | রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ৫৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক গরমিল এবং ১১১ মেট্রিক টন সরকারি চালের হদিস না মেলার তথ্য উঠে এসেছে।
অডিট প্রতিবেদনে দুর্নীতির চিত্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পুঠিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:
-
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই প্রকল্প থেকে বড় অংকের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
-
ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো বৈধ ভাউচার বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
-
বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ১১১ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস দিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
মুখ খুলতে নারাজ কর্মকর্তারা সরকারি সম্পদের এই বিশাল লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টিকে দপ্তরের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে দাবি করেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পাল্টা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি অবহিত নন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি, তবে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের কঠোর আল্টিমেটাম গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও চালের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।