
মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা): কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নয়, নেই কোনো প্রচারের মোহ—কেবল স্রষ্টার সন্তুষ্টি আর আর্তমানবতার সেবার শ্লোগান নিয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে আত্মপ্রকাশ করল ‘প্রবাসী পল্লী সেবা সংগঠন’। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ব্রহ্মপুত্র নদ বিধৌত এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিচন্ডী এলাকায় ১৭টি মসজিদে একযোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
সাধারণত সেবামূলক সংগঠনগুলো অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হলেও ‘প্রবাসী পল্লী সেবা সংগঠন’ হাঁটছে এক ব্যতিক্রমী ও টেকসই পথে। সংগঠনের সদস্যরা তাদের কষ্টার্জিত আয় থেকে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে সঞ্চয় করবেন। এই সঞ্চিত পুঁজি দিয়ে হালাল ব্যবসা পরিচালনা করা হবে এবং সেই ব্যবসার লভ্যাংশ ব্যয় করা হবে সমাজকল্যাণে।
সংগঠনের সেবার ক্ষেত্রসমূহ:
মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন।
এতিম শিশুদের শিক্ষার ভার গ্রহণ।
অসহায়-দুস্থ পরিবারের চিকিৎসা ও খাদ্যের জোগান।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সেবার অঙ্গীকার করেছেন সংগঠনের সদস্যরা। ফাণ্ডে টাকা থাকুক বা না থাকুক, এলাকার যেকোনো বিপদে সদস্যরা নিজেদের পকেট থেকে তাৎক্ষণিক চাঁদা তুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে অঙ্গীকার করেছেন, তা স্থানীয়দের মনে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। দল-মত নির্বিশেষে কেবল মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই সংগঠনে প্রবাসী ভাইদের ত্যাগ আর স্থানীয় তরুণদের শ্রমের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্যবৃন্দ দেশবাসী এবং প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের এই ক্ষুদ্র চেষ্টা বিশাল সমুদ্রে এক বিন্দু জলের মতো। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসা আর অংশগ্রহণ পেলে এই বিন্দু থেকেই গড়ে উঠবে সেবার মহাসমুদ্র।”
“আমরা কারো কাছে হাত পেতে নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যকে একীভূত করে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে সমাজের সেবা করতে চাই।”
— সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
দক্ষিণ হরিচন্ডী এলাকার ১৭টি মসজিদে ইফতার বিতরণের মধ্য দিয়ে যে শুভ সূচনা হলো, তার সাফল্য কামনায় প্রতিটি মসজিদ প্রাঙ্গণ ছিল দোয়া ও মোনাজাতে মুখরিত। মানবতার এই মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।