1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাটখিলে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নান্দাইলে জাইকার খাল খনন প্রকল্পে হরিলুট: ৬৭ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ কালিয়াকৈরে শেরপুরের চাল বোঝাই ট্রাক ছিনতাই: চালককে কুপিয়ে জখম হালুয়াঘাট সীমান্তে ওপারে ঢুকে হামলার শিকার বাংলাদেশি: উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের ভোট: কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরানে ইসরাইলের বিমান হামলা সিলেটের শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক কবি আবদুল হান্নান ইউজেটিক্সকে কর্মস্থলে জাঁকজমক সংবর্ধনা যে শর্তে ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দিতে রাজি হলো ইরান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের নাটকীয় মোড়: ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর, শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তান ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প: দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

নান্দাইলে জাইকার খাল খনন প্রকল্পে হরিলুট: ৬৭ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে
নান্দাইলে জাইকার খাল খনন প্রকল্পে হরিলুট: ৬৭ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ

ফরিদ মিয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৬নং রাজগাতী ইউনিয়নে এলজিইডি’র (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন এই কাজে শিডিউল বা প্রাক্কলন না মেনে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্পের বিবরণ ও অনিয়ম

জানা গেছে, ‘দুল্লি বিল উপ-প্রকল্পের’ আওতায় প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৬টি প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:

  • শিডিউল লঙ্ঘন: খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ মাটি কাটা হয়নি।

  • অর্থ উত্তোলন: প্রকল্পের কাজ নামমাত্র করে ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় বাকি টাকা উত্তোলনের জন্য ফাইল প্রক্রিয়াকরণ চলছে।

  • কাজ বন্ধ: বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে বর্তমানে মাটি কাটার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিতর্কিত সমিতি ও ভবন নির্মাণ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দুল্লি বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই লুটপাটের ছক সাজানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেজিস্ট্রিকৃত এই সমিতির সভাপতি আক্কাস আলী এবং সেক্রেটারি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মামুন মেম্বার। অভিযোগ উঠেছে, পাছদরিল্ল্যা গ্রামে সমিতির একটি অফিস ভবন নির্মাণের জন্য আরও ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মতে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থের অপচয়।


এক নজরে ৬ জন প্রকল্প সভাপতি:

১. মো. আজিজুর রহমান (তারা মিয়া) ২. কাজল মিয়া ৩. মো. হারিস উদ্দিন ভূঁইয়া ৪. জিয়ারুল ইসলাম ৫. আবু সাইয়িদ ৬. মো. মহির উদ্দিন


কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মালেক বিশ্বাস জানান:

“প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না হলে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসী আমাদের অভিযোগ জানিয়েছেন, আমরা তা তদন্ত করে দেখব। কাজ না করে টাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জনদুর্ভোগ ও শঙ্কা

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে সরকারি এই বিপুল অর্থের কোনো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকরা। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট