
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)।
জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করায় নৌযানটি ডুবে যায়। মূলত মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এবং উন্নত জীবনের আশায় রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নেয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ামুখী একটি জাহাজ সমুদ্রের মাঝপথে কিছু মানুষকে ভাসতে দেখে খবর দেয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ মোট ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধারকৃতরা প্লাস্টিকের ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন।
উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন:
“মালয়েশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে আমাদের নৌকায় তোলা হয়েছিল। কিন্তু যাত্রাপথে দমবন্ধ হয়ে অনেকেই মারা যান। এক পর্যায়ে নৌকার ভেতরে বিষাক্ত তেল ছড়িয়ে পড়লে অনেকে দগ্ধ হন। টানা চারদিন চলার পর নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলাম।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
জাতিসংঘ এই ঘটনাকে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং যথাযথ কোনো সমাধান না থাকার একটি করুণ পরিণতি হিসেবে দেখছে। সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই বিপজ্জনক অভিবাসন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।