
স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম কর্ণেল ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে মারধর এবং ১০টি সাদা চেক স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান মনির (৪৫) জানিয়েছেন, তিনি প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব জামালপুর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ জানান।
ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামানের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, কিছুদিন ধরে মনোয়ার হোসেন কর্ণেল ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। ১৬ নভেম্বর রবিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন দফায় তাকে মারধর করা হয়।
মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে গেইটপাড় এলাকায় একটি কাচি বিরিয়ানীর দোকানে নিয়ে যান। সেখানে মনোয়ার ইসলাম কর্ণেলের হুকুমে তার সঙ্গীরা তাকে মুখ, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি মারধর করে। এরপর তাকে অগ্রণী ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে ১০ পাতার একটি চেক বই জোরপূর্বক তার স্বাক্ষরে পূর্ণ করা হয়। এছাড়া ১শত টাকা মূল্যের ৯টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়। আহতাবস্থায় ভুক্তভোগী জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মনিরুজ্জামান ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন,
“জোর করে চেকে ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে তারা আমার অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকিতে আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন কর্ণেল এই ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি বাসায় ছিলাম। শুনেছি সাংবাদিক সম্মেলনে আমাকে জড়িয়েছে। পরে জানি যে, জমি অধিগ্রহণের টাকা নেওয়ার কথা বলে মনির টাকা নিয়েছে। যাদের কাছে টাকা নিয়েছে তাই তাকে মেরেছে।”
অভিযোগ ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।