
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তার পর এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানোর খবরের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। খবর বিবিসির।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৫ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯৯ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ৫.৫ শতাংশেরও বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে ছিল। তবে বর্তমান দরপতনের পরেও তেলের দাম ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের তুলনায় অনেক বেশি। ওই দিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা “এখনই” কার্যকরভাবে চলছে। তিনি দাবি করেন, যাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে তারা চুক্তি করতে “খুবই আগ্রহী”। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সোমবার তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবরকে “ভুয়া” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি আলোচনার খবরের মধ্যেও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আলোচনার ঘোষণা বিশ্ববাজারে এক ধরণের স্বস্তি এনেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। যদি সত্যিই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।