
মনজু হোসেন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬
পঞ্চগড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ভয়াবহ তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধা। গাছচাপায় তাঁর মৃত্যু ছাড়াও দেয়াল ধসে এক দম্পতি গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে জেলার ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিহত বৃদ্ধার নাম চাকাতি বালা (৭৮)। তিনি সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ: শুক্রবার রাতে চাকাতি বালা নিজের বাড়িতে একা ছিলেন। রাত ১২টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বিশাল গাছ উপড়ে তাঁর ঘরের ওপর পড়লে তিনি নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আহত দম্পতি: ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকায় ঝড়ের সময় ময়নুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় পাশের একটি তিনতলা ভবনের ছাদের দেয়াল ধসে তাঁদের টিনের ঘরের ওপর পড়লে তাঁরা গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তাঁরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
ভোর হতেই জেলায় ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বড় আকারের শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সদর ও আটোয়ারী উপজেলায় রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভুট্টা ও গম: কাঁচা ও আধা-পাকা ভুট্টা ও গম ক্ষেত মাটির সাথে মিশে গেছে।
ফলমূল: আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা।
শাকসবজি: মরিচসহ অন্যান্য শীতকালীন ও আগাম সবজির ক্ষেত শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
জেলার অসংখ্য টিনের ঘরের চাল শিলাবৃষ্টিতে ফুটো হয়ে গেছে। গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক এলাকায় এখনও অন্ধকার বিরাজ করছে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় পার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার।