
ফরিদ মিয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৬নং রাজগাতী ইউনিয়নে এলজিইডি’র (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন এই কাজে শিডিউল বা প্রাক্কলন না মেনে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ‘দুল্লি বিল উপ-প্রকল্পের’ আওতায় প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের জন্য ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৬টি প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:
শিডিউল লঙ্ঘন: খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ মাটি কাটা হয়নি।
অর্থ উত্তোলন: প্রকল্পের কাজ নামমাত্র করে ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় বাকি টাকা উত্তোলনের জন্য ফাইল প্রক্রিয়াকরণ চলছে।
কাজ বন্ধ: বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে বর্তমানে মাটি কাটার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দুল্লি বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই লুটপাটের ছক সাজানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেজিস্ট্রিকৃত এই সমিতির সভাপতি আক্কাস আলী এবং সেক্রেটারি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মামুন মেম্বার। অভিযোগ উঠেছে, পাছদরিল্ল্যা গ্রামে সমিতির একটি অফিস ভবন নির্মাণের জন্য আরও ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মতে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থের অপচয়।
১. মো. আজিজুর রহমান (তারা মিয়া) ২. কাজল মিয়া ৩. মো. হারিস উদ্দিন ভূঁইয়া ৪. জিয়ারুল ইসলাম ৫. আবু সাইয়িদ ৬. মো. মহির উদ্দিন
নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মালেক বিশ্বাস জানান:
“প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না হলে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসী আমাদের অভিযোগ জানিয়েছেন, আমরা তা তদন্ত করে দেখব। কাজ না করে টাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে সরকারি এই বিপুল অর্থের কোনো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকরা। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।